দৃষ্টি আকর্ষন
সব সময় সর্বশেষ সংবাদ জানতে দৈনিক দেশপ্রেম নিজে পড়ুন এবং অন্যকে পড়তে উৎসাহিত করুন ........... আপনার এলাকার যে কোন সংবাদ আমাদের ছবিসহ জানান-আমরা সেটি প্রকাশ করবো দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায়, নিউজ পাঠান dailydeshprem@gmail.com এই ইমেইলে ............ আপনার পণ্যের খবর সকলের কাছে দ্রুত পৌছাতে দৈনিক দেশপ্রেম পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন ..........
শিরোনাম :
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের আলোচনা সভা, সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জুলাই যোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সনদে জরুরি সংশোধন হচ্ছে : ড. আলী রীয়াজ জুলাই সনদ স্বাক্ষর নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত মনে করছি : মঈন খান জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে তিন দাবিতে অবস্থান জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা জাতীয় ঐক্যের নামে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে : জাতীয় শ্রমিক শক্তির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নাহিদ কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্টদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না : সালাহউদ্দিন তারেক রহমানের ৩১ দফার আংশিক প্রতিফলন জুলাই সনদে হয়েছে : এমরান সালেহ প্রিন্স ঠাকুরগাঁওয়ে সার কীটনাশক সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে : ফারুক হাসান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিকেন অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত
মৌলবাদীরা এখন বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতেছে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

মৌলবাদীরা এখন বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতেছে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং (দৈনিক দেশপ্রেম রিপোর্ট): আজ শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় হলেও দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে।

 

গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনারা যাদেরকে মৌলবাদী বলেন, আমি তাদের মৌলবাদী বলি। তারা এখন বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতেছে। অর্থাৎ তাগো লগে থাকলে আপনি বেহেশতে যাবেন আর তাগো লগে না থাকলে আপনি দোজখে যাইবেন। আর নিজেরা বেহেশতে যাইব কিনা সেই কথা তারা জানে না।’

 

তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমি বলব, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদের থেকে মুক্তি পাইছি। কিন্তু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে আমরা এখন সাম্প্রদায়িকতা উগ্র উন্মাদনা সৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে যেটার মধ্য দিয়ে মব তৈরি হয়।’

 

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন এবং জনজীবন ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবে। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা (সাম্প্রদায়িক শক্তি) হতে দেবেন না, ওরা করতে দেবেন না।’

 

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে। প্রত্যেকটা ধর্ম যে যেই বিশ্বাসই করুক না কেন ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পরিচালিত করার জন্য একটা জীবন ব্যবস্থা… ধর্মে যেটা পাপ আধুনিক রাষ্ট্র আইনে সেটা হলো অন্যায়। সেই অন্যায়ের বিচারের ধারার মধ্যে লেখা থাকে কোন অন্যায়ের জন্য কতটুক শাস্তি। ঠিক আপনি পবিত্র কোরআন-গীতা পড়েন কোন পাপের জন্য মৃত্যুর পরে কার কি শাস্তি হবে সেটাও কিন্তু লেখা আছে। সেই কারণে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নাই।’

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে হিউম্যান রিসার্চ এ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

 

গয়েশ্বর বলেন, ‘হাসিনা সরকারের চরিত্র ছিল ফ্যাসিবাদী- এটা হয়তো অনেকে ভুলে গেছেন। বর্তমান সরকার তো যেন কোনো আদর্শই মানে না। তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ে না বললেই চলে। মন্ত্রীদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া আর কেউ কিছু বলেন না। বোঝা যায় না মন্ত্রণালয়গুলো কীভাবে চলছে বা কোথায় কী হচ্ছে। এখন প্রশাসন চালাচ্ছে শেখ হাসিনা রেখে যাওয়া কর্মকর্তারাই। তাহলে প্রশ্ন হলো- যখন এত জামায়াত, এত বিএনপি সচিবালয়ে আছে, হাসিনার সময়ে তারা থাকল কীভাবে? ওনার (শেখ হাসিনার সরকারের) সময়ে তো প্রায়ই কর্মকর্তাদের ‘পোস্টমর্টেম’ করে সরিয়ে দেওয়া হতো, তাই না?’

 

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আজ যেসব এলাকায় বিএনপি সমর্থন দেখা যাচ্ছে, আগে সেখানে আওয়ামী লীগ কোথায় ছিল? এখন বিভিন্ন মাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে নানান অযথা কনটেন্ট দেখতে পাওয়া যায়। গণমাধ্যমও এমন স্বাধীন হয়েছে যে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু স্বাধীনতা মানেই দায়বদ্ধতা নেই—এমন তো নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা বা যাকে খুশি তাকে আক্রমণ করা নয়। যেমন আমার ভোটের অধিকার আছে, তেমনি অন্যেরও আছে। সোশ্যাল মিডিয়া এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যেখানে যে কেউ যা খুশি তাই বলে। এসব কথা শুনে বিরক্ত লাগে, মানুষের মন অস্থির হয়ে যায়। ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের মধ্যে নানা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে। অনেক বিষয় এখানে বলা সম্ভব নয়, কারণ মা-বোনেরা উপস্থিত আছেন। তাহলে প্রশ্ন হলো—এই স্বাধীনতা আমাদের সমাজকে স্বর্গে নিয়ে যাচ্ছে, না নরকে ঠেলে দিচ্ছে?’

 

পিআর পদ্ধতি নিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে হলো জনগণ ভুল বশত হোক আর সঠিক ভাবেই হোক সে ভোটে সরকার নির্বাচিত হবে। আবার জনগণ যদি মনে করে যে, এরে ভোট দেওয়া ভুল করছি তাহলে আরেকবার ভোটের সময় ভোট দিবে না… এটাই তো স্বাভাবিক। এই সোজা পথটায় আমাদের চলতে কষ্টটা কেনো? অন্তবর্তীকালীন সরকার তো সংস্কার গান গাইতে গাইতে অনেক কুসংস্কারে পরিণত করে ফেলেছে। ওই যে বললাম, হায়ার করে বিদেশ থেকে বুদ্ধিমান লোক আনা হইছে আর এত বুদ্ধিমান একখানে বসলে যা হয় তাই হইতেছে। বদিউল আলম মজুমদার একটা বিরাট লেখা লেখছেন পিআর এর বিরুদ্ধে।

 

তিনি বলেন, ‘ভাই, আমি তো এত লেখাপড়া জানি না আমি পিআর বুঝিও না। এই পিআরটা কোথায় থেকে আসতেছে বুঝি না। এখন বুঝতেছি-শুনতেছি যে নেপালে আছে। এজন্য সকাল বিকেল প্রধানমন্ত্রী পাঠায়। পাকিস্তানে সিএসপির (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) ভাইবা পরীক্ষায় একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর নাম কি? পরীক্ষার্থী বললেন, সরি স্যার আমি তো সকালবেলা পত্রিকাটা পড়ি নাই। কালকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানি অমুক… এর মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়ে থাকে। এই পিআরের ব্যবস্থাটা এরকম যে, সকালে প্রধানমন্ত্রী একজন, দুপুরে আরেকজন, রাত্রেবেলা আরেকজন…এই পদ্ধতি।’

 

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা ছোট ছোট দলে মিটিং করি কেন? আমরা গণতন্ত্র চাই নিরঙ্কুশভাবে। আমাদের নেতা তারেক প্রথমে বলছেন, আপনার ভোট আপনিই দিবেন, আমাকে নাইবা দেন। আপনাদের ভোটের অধিকারের আন্দোলন করছি আমার পাশে থাকেন। কিন্তু আমরা যারা বিএনপি করি সবাই কি তারেক রহমানের মতো বলি নাকি। আমরা তো সবাই এমপি হইতে চাই… তোরা যে যা বলিস ভাই। আমরা কিন্তু এলাকার মধ্যে নিজেরা নিজেরা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে কাঁদা ছুড়াছুড়ি শুরু করি আর সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে ছাইড়া দেয় কে কারে কী কয়? দোষ তাদের না, তারা আইটেম পায় ছাইড়া দেয়, ভিউয়ার বেশি হলে উপার্জন হয়, আয় হয়। সুতরাং আমরা যদি সংযতশীল না হই, আমরা যদি বলি যে জনগণের জন্য করি…এইটা আমি মনে করি আশীর্বাদ হতে পারে। আমরা পলিটিক্স করি নিজের জন্য, আমি মন্ত্রী হমু, আমি এমপি হমু, এমপি-মন্ত্রী হলে সালাম পামু, এমপি-মন্ত্রী হলে আমার বাড়ি হইবো, আমার গাড়ি হইব…আমি আত্মসমালোচনা করছি। আমি কোন দল বলে কথা বলছি না। যদি আমার এটা চিন্তা থাকে যে, পলিটিক্স ইজ এ প্রফেশন অন দি বিসিস… প্রফেশনা বি দা রিচ ম্যান তাহলে জনগণ আমাদের দিকে তাকাইয়া কতক্ষণ থাকবে? কেন থাকব? সুতরাং আমরা যদি সমস্বরে নামি যে আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই আর কিছু চাই না।কারো শক্তি না আপনাকে সরাতে পারে।’

 

সংগঠনের আহ্বায়ক আহমেদ হুসেইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শহিদুল হক দেওয়ানের আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

সংগঠনের আহ্বায়ক আহমেদ হুসেইনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব শহিদুল হক দেওয়ানের আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© Copyright 2012 Daily Deshprem Design & Developed By Mahmud IT